Others

CAA নিয়ে উত্তাল ভারত! ঠিক কী করণীয় নাগরিকদের? সমস্যায় পড়ার আগেই চোখ বুলিয়ে নিন দশটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে

Advertisement
   

সোমবার দেশজুড়ে লাগু হয়েছে CAA আইন। এই আইন অনুসারে, ভারতে থাকতে হলে নাগরিকত্ব প্রয়োজন। ভারত পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে আগত মানুষ দের নাগরিকত্ব দেবে সরকার। আবার ভারতবর্ষের স্থানীয়দের দেখাতে হবে নাগরিকত্বের প্রমাণ! দেশ জুড়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে CAA নিয়ে। এই মুহূর্তে যে দশটি প্রশ্ন উঠে আসছে, তারই উত্তর তুলে ধরা হল আজকের এই প্রতিবেদনে।

Advertisement

1) CAA আইনে নাগরিকত্ব পাবেন কারা?

CAA আইনের নিয়ম বলছে, যে সমস্ত নাগরিক ২০১৪ সালের ৩১ ডিসেম্বরের আগে ভারতবর্ষে এসেছিলেন, অর্থাৎ গত ছয় বছর ধরে এদেশে স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন তাঁদের সবাইকেই নাগরিকত্ব দেওয়া হবে। তবে তাঁদের সবাইকে ভিসা ও ইমিগ্রেশন স্ট্যাম্প প্রদান করতে হবে। ভারতের প্রতিবেশী দেশ যেমন বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও আফগানিস্তান থেকে আসা হিন্দু, শিখ, বৌদ্ধ, পার্সি, জৈন, খ্রিষ্টান মানুষেরা CAA আইন মোতাবেক ভারতের স্থায়ী নাগরিকত্ব পাবেন।

WhatsApp Group Join Now
Telegram Group Join Now  

আরও পড়ুন – 10th Pass job- রাজ্যের স্কুলে কর্মী নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হলো। মাধ্যমিক পাশ যোগ্যতায় নিয়োগ।

2) CAA প্রক্রিয়াটি কাজ করবে কিভাবে?

Advertisement

CAA প্রক্রিয়াটি কাজ করবে অনলাইনে। মানুষকে অনলাইনের মাধ্যমে এই নাগরিকত্বের আবেদন জানাতে হবে। এই প্রক্রিয়ার জন্য সরকার একটি পোর্টাল চালু করেছে। পোর্টালটি হল (https://indiancitizenshiponline.nic.in)। অনলাইনে নাগরিকত্বের আবেদন জানানোর পর তা প্রেরিত হবে জেলা কমিটির কাছে। তারপর জেলা কমিটি থেকে আবেদন যাবে ক্ষমতাপ্রাপ্ত এমপাওয়ার্ড কমিটিতে। কমিটিতে থাকবেন সাত জন সদস্য-সহ প্রধান সেন্সাস প্রক্রিয়ার ডিরেক্টর। সবশেষে কমিটি
আবেদনপত্র বিবেচনা করে নাগরিকত্ব দেওয়ার সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাবে।

Advertisement

3) CAA-আইনে নাগরিকত্বের আবেদনের জন্য কোন কোন নথি জমা দিতে হবে?

ভারতের নাগরিকত্ব পাওয়ার জন্য যাঁরা অনলাইন মাধ্যমে আবেদন জানাবেন, তাঁদের এই প্রক্রিয়ায় মোট নয় ধরণের ডকুমেন্ট জমা দিতে হবে। সেই ডকুমেন্টগুলি হল- ১) জন্ম সার্টিফিকেট, ২) প্যান কার্ড, ৩) শিক্ষাগত যোগ্যতার সার্টিফিকেট, ৪) রেশন কার্ড ৫) ড্রাইভিং লাইসেন্স, ৬) জমির নথি, ৭) বিয়ের শংসাপত্র ৮) আধার কার্ড ৯) বিদ্যুৎ ও জলের বিল। আবেদনকারীকে তফসিল ১বি-এর অধীনে ২০ ধরনের নথি, তফসিল ১-সির অধীনে হলফনামা দিতে হবে। আবেদনপত্রে উল্লেখ থাকবে যে তাঁরা তিন দেশের অ-মুসলিম উদ্বাস্তু।

4) যদি উল্লিখিত কোনো ডকুমেন্ট না থাকে তাহলে কী কোনো সমস্যা হবে?

যদি কোনো আবেদনকারীর উল্লিখিত নথির মধ্যে কোনো একটি বা দুটি নথি না থাকে, তবে তিনি বিশেষ সমস্যায় পড়বেন না। কারণ কাগজ না থাকলে সাপেক্ষে উপযুক্ত কারণ দেখাবেন। অথবা ভারপ্রাপ্ত কর্মচারীর সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলে নেবেন।

আরও পড়ুন – ‘এই’ পুরনিগম বিপুল শূন্য পদে নিয়োগ করছে, বেতন শুনলে চমকে যাবেন! জানুন আবেদন পদ্ধতি, Siliguri Municipal Corporation Recruitment

5) নাগরিকত্বের জন্য কোন ফর্ম পূরণ করতে হবে?

CAA-অধীনে যাঁরা ভারতের নাগরিকত্বের জন্য আবেদন জানাবেন, তাঁদের একটি অনলাইন ফর্ম পূরণ করতে হবে। যেখানে তাঁরা নিজেদের বাবা-মা অথবা নিজের স্বামীর নাম উল্লেখ করবেন। ফর্মে এও উল্লেখ করতে হবে যে, তিনি কোন দেশ থেকে ভারতে এসেছেন, তিনি কতদিন ধরে ভারতবর্ষে রয়েছেন, তিনি ধর্মের নাগরিক ইত্যাদি।

6) বিবাহিত ও অবিবাহিত নাগরিকদের জন্য কী আলাদা ফর্ম ফিল আপ করতে হবে?

CAA-অধীনে যে সরকারি পোর্টালটি ওপেন করা হয়েছে, সেখানে বিবাহিত ও অবিবাহিত নাগরিক এবং শিশুদের জন্য থাকছে আলাদা ফর্ম। আপনি যদি এদেশে আসার পর বিবাহিত হন, তাও উল্লেখ করা গুরুত্বপূর্ণ।

7) আবেদনকারীর অপরাধমূলক রেকর্ড থাকলে কি হবে?

ভারতের নাগরিকত্ব চাওয়া আবেদনকারীর নাম যদি পুলিশ অভিযুক্তর তালিকায় থাকে, অথবা তাঁর অপরাধমূলক রেকর্ড থাকে, তবে কর্তৃপক্ষ আবেদনকারীর বিষয়ে বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেবে। যদি বিবেচনার পর ঠিক হয়, তবে তিনি ভারতের নাগরিকত্ব পাবেন। আর যদি মত বিপক্ষে যায়, তবে আবেদনকারীর ফর্মটি বাতিল করা হতে পারে।

8) CAA আইনে কারোর নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়া যায়?

সরকারের তরফে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, CAA আইনে কারোর নাগরিকত্ব বাতিল হবেনা। বরং সবাইকেই নাগরিকত্ব দেওয়া হবে। এই আইনে কারোর নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়ার কোনো বিধান নেই।

9) নাগরিকত্ব পেতে হলে কী শর্ত থাকছে?

CAA আইন অনুসারে, ভারতের নাগরিকত্ব পেতে হলে একজন ব্যক্তিকে আবেদনের আগে ভারতে কমপক্ষে ১২ মাস বসবাস করতে হবে। পাশাপাশি, তাঁকে বারো মাসের ঠিক আগের আট বছরে তাঁকে অন্ততঃ ছয় বছর ভারতে বাস করতে হবে। সেই ব্যক্তির আবেদন গৃহীত হওয়ার পর তিনি ভারতের নাগরিকত্ব পাবেন।

10) নাগরিকত্বের শংসাপত্র কিভাবে পাওয়া যাবে?

যাঁরা ভারতের নাগরিকত্ব পেতে চান, তাঁদের প্রথমে CAA অনলাইন পোর্টালের মাধ্যমে আবেদন জমা করতে
হবে। তারপর সেই আবেদন যাচাইকরণের জন্য পাঠানো হবে। যাচাই প্রক্রিয়ায় যদি কোনো ভুল, অসত্য তথ্য, অথবা জালিয়াতির প্রমাণ মেলে, তবে সেই আবেদন বাতিল হতে পারে। গোটা প্রক্রিয়ার শেষে নাগরিকত্বের ডিজিটাল সার্টিফিকেট দেওয়া হবে। চাইলে হার্ড কপিও দেওয়া হবে।

আরও পড়ুন – Indian Bank Recruitment- Indian ব্যাংকে দারুন চাকরির সুযোগ! ১৪৬ টি শূন্যপদে নিয়োগ আকর্ষণীয় বেতনে, আবেদন করবেন কিভাবে জানুন?

Related Articles

3 Comments

  1. আমার জন্ম ভারতবর্ষে তাহলে আমার কি হবে

  2. যাদের জন্ম 1987 এর পূর্বে তাদের মধ্যে কারোই জন্ম সার্টিফিকেট নেই তারা এই দেশে জন্মগ্রহণ করেও কিভাবে ভারতীয় নাগরিক প্রমাণ হবে। এমনকি কিছু লোক রয়েছে তাদের বর্তমান বয়স ৭০/৮০ তারা কি করবে?

  3. যাদের জন্ম certificate নেই তাঁরা কি করবেন? অথচ তারা এই দেশের নাগরিক । কিন্তু জন্ম মৃত্যু কোনো প্রমাণ নেই , আবার যারা প্রাণের ভয়ে অবৈধ ভাবে এই দেশে এসে আর ভেরত যায়নি এখানেই বসবাস শুরু করে দিয়েছেন তারাই বা কিকরবেন?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *